অপারেশন ডেভিল হান্ট: বিএনপির নেতাকর্মী আটক করে পুলিশের গ্রেফতার বাণিজ্য !
অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২ এর বিশেষ অভিযানে সারা দেশ থেকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গতকাল মঙ্গলবার ৩৮২ জনকে গ্রেফতার করেছে। আর এখন পর্যন্ত সর্বমোট প্রায় ২০ হাজার জনকে গ্রেফতার করেছে।
কিন্তু এই অভিযান নিয়ে সমালোচনা তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে অনেক নিরপরাধ ব্যক্তিকে গ্রেফতার করার। অনেক ক্ষেত্রে বিএনপি-জামায়াতমনা লোকদেরও নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ এর সদস্য বলে কোন কোন মামলায় অজ্ঞাতনামা হিসেবে গ্রেফতার করা হয়েছে। এমনকি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ওয়ার্ড পর্যায়ের এক নেতাকে গ্রেফতারের গুরতর অভিযোগ উঠেছে।
সম্প্রতি একটি মামলায় গ্রেফতার হন বরিশাল জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলার বাগধা গ্রামের মোসলেম তালুকদারের ছোট পুত্র দেলোয়ার হোসেন তালুকদার। দেলোয়ার হোসেন ৩ নং বাগধা ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি।
এই বিষয়ে জানতে চাওয়া হয় শ্রমিক দলের ইউনিয়ন সভাপতি হামিদুর রহমান শিপন এর কাছে। তিনি বলেন আমাদের এক ওয়ার্ড সভাপতি রাজনৈতিক মামলায় গ্রেফতার হয়েছে আমি সেটা জানতামই না। গ্রেফতারের বিষয়ে জানতে পেরে আমি আমাদের ওয়ার্ড কমিটির লিস্ট তার আইনজীবীর কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা করি। সেই সাথে দ্রুত যাতে তাকে মিথ্যা মামলা থেকে মুক্তি দেয়ার ব্যবস্থা নেয়া হয় সেই ব্যাপারে আইনজীবীকে পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করি।
দেলোয়ার হোসেনকে গ্রেফতার এর ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ বিরাজ করছে। মোঃ লিটন নামের এক বাসিন্দা বলেন, সারা জীবন বিএনপি করে আওয়ামী লীগ হিসেবে গ্রেফতার হওয়া মেনে নেয়া যায় না। শুধু তিনি না, তার পরিবারের কেউও আওয়ামী লীগ এর রাজনীতির সাথে কোনো ভাবে জড়িত নাই বা ছিলো না। আমি এই মিথ্যা মামলা থেকে তার দ্রুত মুক্তি চাই।
গ্রামের অন্য এক বাসিন্দা মেহেদি হাসান বলেন, দেলোয়ার কাকা বিএনপির একজন ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা। এভাবে বিএনপির লোকদের গ্রেফতার প্রমাণ করে ফ্যাসিস্ট আমলের পুলিশ ইচ্ছা করে বিএনপির মানুষকে হয়রানি করতেছে। আওয়ামী পন্থী পুলিশ সুযোগ পেলেই আমাদের লোকদের হয়রানি করে। তারা দুই একজন আওয়ামী চুনোপুঁটি গ্রেফতার করছে, রাঘব বোয়ালদের দেশ থেকে পালাতে সাহায্য করেছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, পুলিশ নিরীহ বিএনপি সমর্থকদের নিয়ে গ্রেফতার বাণিজ্য করে বেড়াচ্ছে বলে পত্রিকার শুনতাম। আর সর্বশেষতো তারা আমাদের এক নেতাকেই আওয়ামী লীগ বানিয়ে দিতে চাচ্ছে। এর মাধ্যমে প্রশাসন আমাদের নেতাকর্মীদের মনোবল ভেঙ্গে দিতে চাচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাগধা গ্রামের এক বাসিন্দা বলেন, শুনেছি দেলোয়ার হোসেন এর সাথে তার এক প্রতিবেশীর জমিজমা নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছে। এই দ্বন্দ্বে স্থানীয় এক বিএনপির কোন এক নেতা অর্থের বিনিময়ে ওই প্রতিবেশীর পক্ষ নিয়ে দেলোয়ার হোসেনকে পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দেয়। তিনি ভিলেজ পলিটিক্স এর শিকার।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এই গ্রেফতার নিয়ে চলছে ব্যাপক সমালোচনা। স্থানীয় বিএনপি নেতা সাজ্জাদ ও আ: রাজ্জাক অভিযোগ করেন সরকার তার শেষ সময়ে এসে বিএনপির সমর্থক, ছোটখাটো নেতা আর কিছু আওয়ামী লীগের নিরীহ লোক কে গ্রেফতার করে কি প্রমাণ করতে চায়? এর মাধ্যমে তারা কার স্বার্থ রক্ষা করছে? তাদের এই ফেসবুক পোস্টে সবাই এটাকে পুলিশের গ্রেফতার বাণিজ্য বলেই মন্তব্য করছে।
নিউজ টুডে বিডি/নিউজ ডেস্ক