1. Home
  2. বিশেষ সংবাদ
  3. অপারেশন ডেভিল হান্ট: শয়তান দমন নাকি পুলিশের গ্রেফতার বাণিজ্য?
অপারেশন ডেভিল হান্ট: শয়তান দমন নাকি পুলিশের গ্রেফতার বাণিজ্য?

অপারেশন ডেভিল হান্ট: শয়তান দমন নাকি পুলিশের গ্রেফতার বাণিজ্য?

0
  • 2 weeks ago,

অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২ এর বিশেষ অভিযানে সারা দেশ থেকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ পর্যন্ত ১৯ হাজার ১৮২ জনকে গ্রেফতার করেছে। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাতে পুলিশ সদর দফতর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

কিন্তু এই অভিযান নিয়ে সমালোচনা তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে অনেক নিরপরাধ ব্যক্তিকে গ্রেফতার করার। অনেক ক্ষেত্রে বিএনপি-জামায়াতমনা লোকদেরও নিষিদ্ধ ঘোষিত  আওয়ামী লীগ এর সদস্য বলে কোন মামলায় অজ্ঞাতনামা হিসেবে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এমন একটি মামলায় গ্রেফতার হন বরিশাল জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলার বাগধা গ্রামের মোসলেম তালুকদারের ছোট পুত্র দেলোয়ার হোসেন তালুকদার। এলাকার মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায়, দেলোয়ার হোসেন তালুকদার পারিবারিক ভাবে বিএনপির সমর্থক, কোন সময়েই তিনি বা তার পরিবারে কেউই আওয়ামী লীগ এর রাজনীতির সাথে কোনো ভাবে জড়িত ছিলেন না।

দেলোয়ার হোসেনকে গ্রেফতার এর ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ বিরাজ করছে। গোঞ্জর আলী নামের এক বাসিন্দা বলেন, সারা জীবন বিএনপি করে আওয়ামী লীগ হিসেবে গ্রেফতার হওয়া মেনে নেয়া যায় না। এই মিথ্যা মামলা থেকে তার দ্রুত মুক্তি চাই।

গ্রামের অন্য এক বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, দেলোয়ার কাকা সব সময় বিএনপির প্রোগ্রামে না গেলেও তিনি মনে প্রাণের একজন বিএনপির সমর্থক। এভাবে বিএনপির লোকদের গ্রেফতার প্রমাণ করে ফ্যাসিস্ট আমলের পুলিশ ইচ্ছা করে বিএনপির মানুষকে হয়রানি করতেছে। আওয়ামী পন্থী পুলিশ সুযোগ পেলেই আমাদের লোকদের হয়রানি করে। তারা দুই একজন আওয়ামী চুনোপুঁটি গ্রেফতার করছে, রাঘব বোয়ালদের দেশ থেকে পালাতে সাহায্য করেছে। আর নিরীহ বিএনপি সমর্থকদের নিয়ে গ্রেফতার বাণিজ্য করছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এই গ্রেফতার নিয়ে চলছে ব্যাপক সমালোচনা। স্থানীয় বিএনপি নেতা সাজ্জাদ ও আ: রাজ্জাক অভিযোগ করেন সরকার তার শেষ সময়ে এসে বিএনপির সমর্থক আর কিছু আওয়ামী লীগের নিরীহ লোক কে গ্রেফতার করে কি প্রমাণ করতে চায়? এর মাধ্যমে তারা কার স্বার্থ রক্ষা করছে? তাদের এই ফেসবুক পোস্টে সবাই এটাকে পুলিশের গ্রেফতার বাণিজ্য বলেই মন্তব্য করছে।

ইউনিয়ন পর্যায়ের এক শ্রমিক দলের নেতা বলেন, আমি দেলোয়ার হোসেন তালুকদারকে একজন বিএনপির লোক বলেই জানি। যতদূর শুনেছি দলীয় লোক হিসাবে তাকে প্রত্যয়নও করা হয়েছে। পুলিশের কোন দুরভিসন্ধি না থাকলেও তারা অন্য কোন দেলোয়ার কে ধরতে গিয়ে তথ্যের ভুলের জন্য একে গ্রেফতার করেছে। কর্তৃপক্ষ তাকে খুব দ্রুত মুক্তি দিয়ে প্রকৃত অপরাধীকে গ্রেফতার করবে বলেই বিশ্বাস করি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাগধা গ্রামের এক বাসিন্দা বলেন, শুনেছি দেলোয়ার হোসেন এর সাথে তার এক প্রতিবেশীর জমিজমা নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছে। এই দ্বন্দ্বে স্থানীয় এক বিএনপির নেতা অর্থের বিনিময়ে ওই প্রতিবেশীর পক্ষ নিয়ে দেলোয়ার হোসেনকে পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দেয়। তিনি ভিলেজ পলিটিক্স এর শিকার।

নিউজ টুডে বিডি/নিউজ ডেস্ক