ইরানে সামরিক হামলার সিদ্ধান্ত নিতে গিয়েও শেষ মুহূর্তে পিছিয়ে আসে যুক্তরাষ্ট্র। কারণ হিসেবে ওয়াশিংটন পোস্ট তার এক প্রতিবেদনে তিনটি বিষয় এর কথা উল্লেখ করেছে, প্রথমত – ইসরায়েলের অনুরোধ ও সামরিক প্রস্তুতির ঘাটতি, দ্বিতীয়ত – সৌদি আরবসহ কিছু দেশের কূটনীতিক চাপ ও তৃতীয়ত – ইরানের নমনীয় আচরণ।
ইসরায়েল বলেছে, তারা ইরানের পাল্টা হামলা ঠেকাতে পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। আর গত জুন মাসে ১২ দিনের যুদ্ধে প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র অনেক বেশি ব্যবহার হওয়ায় এখন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চাপের মধ্যে আছে।
একই সাথে এই অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর প্রধান জাহাজ না থাকায় প্রতিরক্ষা আরও দুর্বল। তাই প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে ব্যক্তিগতভাবে ফোন করে ইরানকে এখনই আক্রমণ না করতে বলেন।
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ইসরায়েল মার্কিন নৌবাহিনী ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল, যা তখন প্রস্তুত ছিল না।
ইরানে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র সামরিক হামলার প্রস্তুতি নিলেও, সৌদি আরবসহ বেশ কয়েকটি আরব দেশ চাপ প্রয়োগ করে ট্রাম্প প্রশাসনকে থামতে বাধ্য করে।
সৌদির আশঙ্কা ছিল ইরানের প্রতিশোধ আরও বড় ও নিয়ন্ত্রণহীন হতে পারে। এতে গালফ অঞ্চলের নিরাপত্তা, বিশ্ব জ্বালানি বাজার এবং মার্কিন স্বার্থ ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
তাই যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ব্যক্তিগতভাবে ট্রাম্পকে ফোন করে সংযম দেখানোর আহ্বান জানান, যাতে সংঘাত বিস্তার না পায়।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফকে বার্তা পাঠিয়ে জানান, প্রায় ৮০০ বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করা হয়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্র হামলা বন্ধ রাখলেও সামরিক বিকল্প টেবিলে রয়ে গেছে বলে জানানো হয়েছে।
নিউজ টুডে বিডি/নিউজ ডেস্ক