ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া (সেন্ট্রাল মিলিটারি কমান্ড) জানিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র আসলে নিজেদের সাথেই নিজে কথা বলছে। তারা আরও যোগ করেছে: “আমাদের মতো কেউ তোমাদের মতো কারো সাথে কখনোই কোনো আপসে আসবে না—এখনও না, কখনোই না।”
খার্গ দ্বীপে মোতায়েন এক ইরানি সেনার ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, সম্ভাব্য মার্কিন আক্রমণ ঠেকাতে প্রস্তুত অনেক সেনার মধ্যে একজন ‘ওয়ান-ওয়ে’ এফপিভি (FPV) ড্রোন নিয়ে পজিশনে আছেন। সিএনএন-এর মতে, ইরান গত কয়েক সপ্তাহ ধরে খার্গ দ্বীপে অতিরিক্ত সৈন্য ও এয়ার ডিফেন্স মোতায়েন করে ‘ফাঁদ’ পেতেছে।
মোহাম্মদ বাঘের কলিবাফ আরও বলেন: “গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী, একটি আঞ্চলিক দেশের সহায়তায় শত্রুরা ইরানের একটি দ্বীপ দখলের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমাদের বাহিনী সব নজরে রাখছে; যদি তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়, তবে ওই আঞ্চলিক দেশের সকল অত্যাবশ্যকীয় অবকাঠামো অবিরাম ও প্রচণ্ড হামলার শিকার হবে।”
উপসাগরীয় এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তার মতে, মার্কিন সৈন্যরা যদি খার্গ দ্বীপ দখল করতে যায়, তবে সেখানে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটতে পারে যা আরব দেশগুলোর ওপর ইরানি প্রতিশোধমূলক হামলা এবং দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের জন্ম দেবে। অবসরপ্রাপ্ত অ্যাডমিরাল জেমস স্ট্যাভ্রিডিস বলেছেন, “ইরানিরা চতুর ও নির্মম; তারা মার্কিন নৌবহর এবং বিশেষ করে তাদের মাটিতে নামা স্থল সেনাদের সর্বোচ্চ ক্ষয়ক্ষতি করতে সবকিছুই করবে।”
“আমরা এই অঞ্চলে মার্কিন সকল মুভমেন্ট, বিশেষ করে সৈন্য মোতায়েন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। জেনারেলরা যা ভেঙে ফেলেছেন, সাধারণ সৈন্যরা তা ঠিক করতে পারবে না; উল্টো তারা নেতানিয়াহুর অলীক কামনার শিকারে পরিণত হবে। আমাদের মাতৃভূমি রক্ষার সংকল্পকে কেউ পরীক্ষা করতে এসো না।” – মোহাম্মদ বাঘের কলিবাফ, স্পিকার, ইরানি পার্লামেন্ট।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর ন্যাশনাল সিকিউরিটি রিপোর্টার অ্যালেক্স ওয়ার্ডের মতে, অন্তত ৩ জন রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইরানে একটি গ্রাউন্ড অপারেশন বা স্থল অভিযানের পরিকল্পনা করা হয়েছে এবং তা খুব শীঘ্রই শুরু হতে পারে।
চীনা নৌ-পরিবহন সংস্থা ‘কসকো’ সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, বাহরাইন, কাতার, কুয়েত এবং ইরাকে পুনরায় শিপিং কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে। দৃশ্যত ইরান চীনা জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে।
পাকিস্তানে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত নিশ্চিত করেছেন যে, এই পর্যায়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে কোনো ধরনের আলোচনা হচ্ছে না। এক্সিওস এবং ইরানি স্টেট টিভি জানিয়েছে যে, ইরান আমেরিকার দেওয়া ১৫ দফার পরিকল্পনাটি প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি নিশ্চিত করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কোনো আলোচনা চলছে না।
ইসরায়েলি কান নিউজ অনুযায়ী, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনি জীবিত আছেন এবং সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন।
ইরান একটি ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করেছে যেখানে দক্ষিণ-পূর্ব ইরানের আকাশে একটি মার্কিন F/A-18F Super Hornet যুদ্ধবিমানকে তাদের এয়ার ডিফেন্স দিয়ে আঘাত করতে দেখা গেছে। ক্লোজ ভিজ্যুয়ালে বিমানটি আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ার চিহ্ন স্পষ্ট হলেও এটি ভূপাতিত হয়েছে কি না তার কোনো প্রমাণ নেই।
“হিজবুল্লাহ ২০০০ সালের যুদ্ধের মতো ‘হিট অ্যান্ড রান’ এবং আরবান ওয়ারফেয়ার কৌশল গ্রহণ করেছে।” – আল জাজিরা প্রতিনিধি, লেবানন।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে রেরাম নোভাম জানিয়েছে, বাহরাইন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ফুয়েল ট্যাংকে হামলা চালানো হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত লক্ষ্য করে মিসাইল এবং ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ৩১ মার্চের মধ্যে বাজেট পাস করার জন্য দৌড়ঝাঁপ করছেন। তা করতে ব্যর্থ হলে দেশটিতে ৯০ দিনের মধ্যে আগাম নির্বাচন হতে পারে। পোল অনুযায়ী নেতানিয়াহুর বর্তমান জোট নেসেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকান সৈন্যদের ব্যবহৃত ১৩টি সামরিক ঘাঁটির অনেকগুলোই এখন বসবাসের অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছে, যার মধ্যে কুয়েতের ঘাঁটিগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সৌজন্যে: সাংবাদিক সরওয়ার আলম।
নিউজ টুডে বিডি/নিউজ ডেস্ক