আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)-র নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরল সতর্ক করে বলেছেন, বিশ্ব বর্তমানে ১৯৭০-এর দশকের তেল সংকট এবং ২০২২ সালের ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতির সম্মিলিত প্রভাবের চেয়েও ভয়াবহ এক জ্বালানি সংকটের মুখোমুখি।
সোমবার (২৩ মার্চ) ক্যানবেরার ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবে এক মিডিয়া ইভেন্টে তিনি এ কথা বলেন।
ফাতিহ বিরল বলেন, বর্তমান সংকটটি মূলত দুটি তেল সংকট ও একটি গ্যাস সংকটের সম্মিলিত রূপ। হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনায় হামলার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ দৈনিক প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ ব্যারেল হ্রাস পেয়েছে। এটি সত্তরের দশকের সংকটগুলোর সম্মিলিত ঘাটতির চেয়েও দ্বিগুণের বেশি।
সেই সাথে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহও প্রায় ১৪০ বিলিয়ন ঘনমিটার কমেছে। অথচ ইউক্রেনে রুশ হামলার পর এই ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৭৫ বিলিয়ন ঘনমিটার। বিরলের তথ্যমতে, চলমান এই সংঘাতে অন্তত ৯টি দেশের ৪০টি জ্বালানি স্থাপনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘বিশ্ব অর্থনীতি আজ এক বিশাল হুমকির সম্মুখীন এবং আমি আশা করি এই সংকটের দ্রুত সমাধান হবে।’
আইইএ প্রধান উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এই সংকটের গভীরতা অনেকের কাছে ঠিকমতো উপলব্ধি হয়নি। তাই আইইএ এবার প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করছে।
আইইএ প্রধান বলেন, এই সংকটের একমাত্র কার্যকর সমাধান হলো হরমুজ প্রণালী খোলা কেননা এই জলপথ বিশ্বের মোট তেল ও এলএনজির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করে।
এদিকে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল উত্তেজনা আরও জোরদার হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ইরানকে হরমুজ খুলে দিতে ট্রাম্প ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন, না হলে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হামলার ঘোষণা দিয়েছে। এর জবাবে ইরান পাল্টা হুমকি দিয়ে বলেছে, যদি ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উপর হামলা হয়, তারা উপসাগরীয় দেশের বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও পানি শোধনাগারে হামলা করবে। বর্তমানে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে কেবল কিছু নির্দিষ্ট দেশের জাহাজই চলাচল করছে।
নিউজ টুডে বিডি/নিউজ ডেস্ক