1. Home
  2. ছবি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. মিয়ানমার নির্বাচন ২০২৫: সামরিক শাসনের অধীনে প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণ শেষ
মিয়ানমার নির্বাচন ২০২৫: সামরিক শাসনের অধীনে প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণ শেষ

মিয়ানমার নির্বাচন ২০২৫: সামরিক শাসনের অধীনে প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণ শেষ

0
  • 2 weeks ago,

মিয়ানমারে জাতীয় নির্বাচনের প্রথম ধাপের ভোট গ্রহণ আজ রোববার স্থানীয় সময় বিকেল চারটায় শেষ হয়েছে। ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর এটিই দেশটিতে প্রথম সাধারণ নির্বাচন।
তিন ধাপের এই নির্বাচনের প্রথম দফা শুরু হয় আজ সকাল ছয়টায়। বাকি দুই দফার ভোট গ্রহণ হওয়ার কথা রয়েছে আগামী ১১ ও ২৫ জানুয়ারি।
গত নির্বাচনের তুলনায় এবার ভোটকেন্দ্রগুলোতে তরুণদের উপস্থিতি চোখে পড়েনি। বরং ভোটারদের বড় অংশই ছিলেন বয়স্ক ও মধ্যবয়সী।
ইয়াঙ্গুনের একটি ভোটকেন্দ্র থেকে বার্তা সংস্থা এএফপির এক সাংবাদিক জানান, বিকেল চারটার আগে লাউডস্পিকারে শেষবারের মতো ভোটারদের কেন্দ্রে আসার আহ্বান জানানো হয়। ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর এই এলাকা গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল।
নির্বাচন পর্যবেক্ষক, পশ্চিমা কূটনীতিক এবং জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক জান্তার অধীনে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনের কড়া সমালোচনা করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, সেনাবাহিনী নিজেদের অনুগত দলগুলোর মাধ্যমে নির্বাচন আয়োজন করছে, আর ভিন্নমতের ওপর দমন-পীড়ন আগের মতোই চলছে।
এবারের ভোটে মূলত জান্তা–সমর্থিত দলগুলোকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে দেওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনী–ঘনিষ্ঠ ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) সবচেয়ে বেশি আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সমালোচকদের মতে, এটি মূলত সামরিক শাসনকে নতুন রাজনৈতিক রূপে উপস্থাপনের চেষ্টা।
জান্তাপ্রধান মিন অং হ্লাইং রাজধানী নেপিডোতে সকালে নিজের ভোট দেন। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হচ্ছে এবং সেনাবাহিনী এর বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় দায়বদ্ধ।
মিয়ানমারে সর্বশেষ নির্বাচন হয়েছিল ২০২০ সালে, যেখানে অং সান সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি নিরঙ্কুশ বিজয় পায়। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সামরিক বাহিনী তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে তিনি ২৭ বছরের কারাদণ্ডে গোপন স্থানে আটক রয়েছেন।
সু চির দল এনএলডিসহ ২০২০ সালের নির্বাচনে অংশ নেওয়া অধিকাংশ রাজনৈতিক দল এখন বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে সে নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রায় ৯০ শতাংশ দল এবারের ভোটের বাইরে রয়েছে।
সহিংসতা ও নিরাপত্তাজনিত কারণে ৬৫টি নির্বাচনী এলাকায় ভোট পুরোপুরি বাতিল করা হয়েছে। আল–জাজিরার ইয়াঙ্গুন প্রতিনিধি টনি চেং জানান, এর ফলে দেশের অন্তত ২০ শতাংশ মানুষ কার্যত ভোটাধিকার হারিয়েছে।
চেং বলেন, সকালে ভোটকেন্দ্র খোলার পর কিছু ভোটার এলেও উপস্থিতি সীমিত ছিল। অধিকাংশ ভোটার ছিলেন মধ্যবয়সী, তরুণদের দেখা গেছে খুব কম। ব্যালটেও বিকল্প ছিল অল্প, কারণ বেশিরভাগ প্রার্থীই জান্তাপন্থী দলগুলোর।