ইসলামি গুণাবলির অন্যতম হলো অনর্থক বিষয় পরিত্যাগ করা
অনর্থক আচরণ ও উচ্চারণ পরিহার করা ইমান ও ইসলামের অন্যতম সৌন্দর্য। নবীজি (সা.) ইরশাদ করেন, ‘অর্থহীন কথাবার্তা ও কাজকর্ম থেকে নিজের আঁচল বাঁচিয়ে চলা ইসলামের অন্যতম শোভা ও সৌন্দর্য।’ (তিরমিজি: ২৩১৭)। আল্লাহতায়ালা প্রিয় বান্দাদের স্বভাব-বৈশিষ্ট্যের বিবরণ তুলে ধরেছেন এভাবে—‘আর যখন তারা অহেতুক ও অনর্থক কাজকর্মের পাশ কেটে অতিক্রম করে তখন তারা ভদ্রতা বজায় রেখে পার হয়ে যায়।’ (সুরা ফোরকান: ৭২)। সফল মুমিনের পরিচয় বর্ণনা করেছেন এভাবে—‘আর যারা অর্থহীন কথা ও কাজ পরিহার করে ও তার প্রতি বিমুখতা প্রদর্শন করে।’ (সুরা মুমিনুন: ৩)।
আমরা যে জবান দিয়ে কথা বলি এবং যে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ব্যবহার করে কার্যসম্পাদন করি, সব আল্লাহতায়ালার একেকটি মহামূল্যবান নিয়ামত। আর খোদাপ্রদত্ত প্রতিটি নিয়ামত সম্পর্কে আমাদের জবাবদিহি করতে হবে। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘অতঃপর অবশ্যই তোমরা সব নিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে।’ (সুরা তাকাসুর: ৮)। আমাদের প্রতিটি আচরণ ও উচ্চারণ আল্লাহতায়ালা যেমন পর্যবেক্ষণ করছেন, তেমনি ফেরেশতারাও সতত আমলনামায় লিপিবদ্ধ করছেন। কেয়ামতের দিন সব আমাদের সামনে তুলে ধরা হবে। তখন অস্বীকার করার কোনো উপায় থাকবে না। কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, ‘যে কোনো কথা উচ্চারণের সময় মানুষের কাছে লেখার জন্য সদা তৎপর একজন প্রহরী ফেরেশতা উপস্থিত থাকেন।’ (সুরা কাফ: ১৮)। অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে, ‘যখন আমলনামা পেশ করা হবে তখন তুমি অপরাধীদের আমলনামার লেখা দেখে ভীতসন্ত্রস্ত দেখতে পাবে। তারা বলবে, হায়, এ দেখি আশ্চর্য আমলনামা, ছোট-বড় প্রতিটি বিষয়কেই সংরক্ষণ করে রেখেছে।’ (সুরা কাহাফ: ৪৯)
অনেক সময় একটা কথা কিংবা একটা কাজই মানুষের ধ্বংসের জন্য যথেষ্ট হয়। যার ফলে নিক্ষিপ্ত হতে হবে জাহান্নামের অতল গহ্বরে। এক সফরে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাই ওয়া সাল্লাম হজরত মুয়াজ বিন জাবালকে কথা প্রসঙ্গে বললেন, মুয়াজ! তুমি এই জবানকে হেফাজত করো। তিনি আশ্চর্য হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর নবী! আমাদের কি আমাদের কথার কারণে পাকড়াও করা হবে? নবীজি (সা.) উত্তর দিলেন, হে মুয়াজ! মানুষদের উপুড় হয়ে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হওয়ার কারণ তো তাদের এ বাক্যবাণেরই ফল হবে।’ (তিরমিজি: ২৬১৬)।
নিউজ টুডে বিডি/নিউজ ডেস্ক