1. Home
  2. বিশ্ব
  3. যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রনীতি ও সিরিয়ায় নতুন বাস্তবতা
যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রনীতি ও সিরিয়ায় নতুন বাস্তবতা

যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রনীতি ও সিরিয়ায় নতুন বাস্তবতা

0
  • 1 week ago,

আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের আকস্মিক প্রত্যাহারের পর থেকেই ওয়াশিংটনের মিত্রনীতির বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে। সেই ধারাবাহিকতায় এখন সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর (PKK/YPG/SDF) অবস্থান বড় ধরনের সংকটে পড়েছে। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অগ্রাধিকার এবং মিত্রদের প্রতি দায়বদ্ধতা নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।

আফগানিস্তানের পুনরাবৃত্তি: আফগানিস্তানে ২০ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা করা হাজারো স্থানীয় সহযোগী শেষ পর্যন্ত পরিত্যক্ত হয়েছিল। বক্তার বিশ্লেষণে বলা হয়, একই ধরণের পরিস্থিতি সিরিয়াতেও তৈরি হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র যেসব গোষ্ঠীকে দীর্ঘদিন অস্ত্র, অর্থ ও রাজনৈতিক সমর্থন দিয়েছে, তারা এখন যুদ্ধক্ষেত্রে একা হয়ে পড়ছে।

সিরিয়া চুক্তি ও কূটনৈতিক ভাঙন: সিরিয়া সরকার, মার্কিন দূত এবং কুর্দি নেতৃত্বের মধ্যে যে সমঝোতা চুক্তি হয়েছিল, তা বাস্তবায়নের আগেই কুর্দি পক্ষ প্রত্যাখ্যান করে। কুর্দি নেতা মাজলুম আবদি চুক্তির বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ করেন, দাবি করেন এটি সরাসরি তাঁর মাধ্যমে হয়নি। এতে মার্কিন দূত ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান এবং স্পষ্ট করেন যে কুর্দি নেতৃত্ব স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম নয়।

সামরিক বাস্তবতা ও সম্ভাব্য বিশ্বাসঘাতকতা: উত্তর-পূর্ব সিরিয়ায় কুর্দি নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে যুদ্ধবিমান দেখা যাওয়ার খবর পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। তুরস্ক হামলার অভিযোগ অস্বীকার করলেও বিভিন্ন সূত্রে মার্কিন যুদ্ধবিমানের সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছে। যদি এটি সত্য হয়, তবে তা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে অন্যতম বড় মিত্র-বিরোধী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।

আঞ্চলিক বিজয় ও পরাজয়ের দ্বৈত চিত্র: এই পরিস্থিতি সিরিয়া সরকার ও তুরস্কের জন্য কৌশলগত বিজয় হলেও কুর্দি গোষ্ঠীগুলোর জন্য এটি বড় পরাজয়। যে এলাকাগুলোকে ‘কুর্দি অঞ্চল’ হিসেবে দাবি করা হচ্ছিল, সেখানে সিরীয় বাহিনীর প্রবেশে স্থানীয় আরব জনগণের সমর্থন দৃশ্যমান—যা দীর্ঘদিনের জনভিত্তিক দাবিকে দুর্বল করে দেয়।

বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট: ট্রাম্প, ন্যাটো ও ইউরোপ: ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ন্যাটো প্রধান ও ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর বার্তা বিনিময় প্রকাশ পাওয়ায় স্পষ্ট হয় যে সিরিয়া ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় শক্তিগুলো মূলত একই কৌশলগত অবস্থানে রয়েছে। মানবাধিকার বা গণতন্ত্র নয়, বরং ভূরাজনৈতিক স্বার্থই এখানে চালিকাশক্তি।

সিরিয়ার ঘটনাপ্রবাহ আবারও দেখিয়ে দিল, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক বা রাজনৈতিক মিত্রতা দীর্ঘমেয়াদে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয় না। আফগানিস্তান থেকে সিরিয়া—ওয়াশিংটনের কৌশলগত প্রয়োজন বদলালে মিত্রদের পরিত্যাগ করা হয়। এই বাস্তবতা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জোট গঠনের ক্ষেত্রে অনেক রাষ্ট্র ও গোষ্ঠীকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করবে।

সৌজন্যে: সরওয়ার আলম, সাংবাদিক।

নিউজ টুডে বিডি/নিউজ ডেস্ক