সিজ্জিল-২: ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বলয়ে ফাটল ও তেহরানের নতুন সমীকরণ
ইরানের ‘ট্রু প্রমিজ-৩’ অভিযানের ১২তম পর্যায়ে ইরানের রেভ্যুলেশনারী গার্ড কোর (IRGC) প্রথমবারের মতো তাদের অন্যতম ভারী অস্ত্র—ব্যালিস্টিক মিসাইল ‘সিজ্জিল-২’ ব্যবহার করেছে।
তেহরানের দাবি অনুযায়ী, ইসরায়েলের জন্য এই মিসাইলটি কেন এক নতুন স্ট্র্যাটেজিক মাথাব্যথা, তার কারণগুলো বিশ্লেষণ করা যাক:
১. পাল্লা ও বিধ্বংসী ক্ষমতা: সিজ্জিল-২ ইরানের মিসাইল ভাণ্ডারের অন্যতম দানবীয় সংযোজন। ১৮ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ২৩.৬ টন ওজনের এই মিসাইলটি ফাত্তাহ-১ এর চেয়েও ৫-৬ গুণ বেশি ভারী।
এটি প্রায় ১.৫ টন ওজনের ওয়ারহেড নিয়ে ১,০০০ কিমি অথবা ৭০০ কেজি ওয়ারহেড নিয়ে ২,০০০ কিমি পর্যন্ত আঘাত হানতে সক্ষম। এর অর্থ হলো, ইসরায়েলের যেকোনো ভৌগোলিক অবস্থান এখন এই অস্ত্রের আওতাভুক্ত।
২. সলিড-ফুয়েল প্রযুক্তি: দ্রুততা ও গোপনীয়তা:পুরানো প্রজন্মের শাহাব-৩ মিসাইল উৎক্ষেপণের আগে কয়েক ঘণ্টা জ্বালানি ভরার প্রয়োজন হতো, যা গোয়েন্দা নজরদারিতে ধরা পড়ার ঝুঁকি বাড়াত।
কিন্তু সিজ্জিল-২ কঠিন জ্বালানি চালিত হওয়ায় এটি দীর্ঘ সময় ‘রেডি-টু-লঞ্চ’ অবস্থায় রাখা যায়। ফলে অত্যন্ত স্বল্প নোটিশে এটি উৎক্ষেপণ করা সম্ভব, যা ইসরায়েলি রাডার বা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে প্রস্তুতির ন্যূনতম সুযোগও দেয় না।
৩. এমআইআরভি (MIRV) ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা: ইরানের দাবি মতে, এই মিসাইলের সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হলো এর একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতা (MIRV)।
একটি মাত্র সিজ্জিল-২ আকাশ থেকে একাধিক ওয়ারহেড বর্ষণ করতে পারে। ফলে ইসরায়েলের অ্যারো বা প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একই সময়ে বিপুল সংখ্যক ধাবমান লক্ষ্যবস্তুকে রুখতে গিয়ে অকার্যকর হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে থাকে।
৪. দুই স্তরের নির্ভুল আঘাত: এটি ইরানের একমাত্র গণ-উৎপাদিত দুই স্তরের (two-stage) মিসাইল। প্রথম স্তর বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর দ্বিতীয় স্তরটি সক্রিয় হয়ে লক্ষ্যবস্তুর দিকে আরও নিখুঁতভাবে ধাবিত হয়। কয়েকশ মিটারের বিধ্বংসী ব্যাসার্ধ নিয়ে এটি যেকোনো সুরক্ষিত অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দিতে সক্ষম।
সিজ্জিল-২ এর এমন প্রয়োগ ইরানের সামরিক ডকট্রিনের এক বড় পরিবর্তন। এটি কেবল আত্মরক্ষার ঢাল নয়, বরং শত্রুর গভীরে ঢুকে চূড়ান্ত আঘাত করার এক সক্ষমতা প্রদর্শন।
তেহরান বোঝাতে চাইছে যে, ইসরায়েলের তথাকথিত ‘নিরাপত্তা বলয়’ এখন তাদের এই অতি-ভারী অস্ত্রের সামনে আগের চেয়ে অনেক বেশি ভঙ্গুর। এটি একাধারে একটি সামরিক বার্তা এবং ইসরায়েলের জন্য যুদ্ধের ময়দানে নতুন এক মনস্তাত্ত্বিক চাপ।
নিউজ টুডে বিডি/নিউজ ডেস্ক