1. Home
  2. ধর্ম
  3. ইসলামী জীবন
  4. ইসলামে প্রতিবেশীর অধিকার
ইসলামে প্রতিবেশীর অধিকার

ইসলামে প্রতিবেশীর অধিকার

0
  • 7 hours ago,

প্রতিবেশীর পরিচয় : প্রতিবেশীর আরবী প্রতিশব্দ جار (জার) এবং ইংরেজী প্রতিশব্দ Neighbour. পারিভাষিক অর্থে- A person who lives next to you or near you. ‘তোমার পরে বা পার্শ্বে বসবাসকারী লোক।

ইবনুল মানযূর বলেন, ‘প্রতিবেশী হচ্ছে যে ব্যক্তি আইনত তোমার পার্শ্বে অবস্থান করছে, সে মুসলিম হোক বা কাফের, পুণ্যবান হোক বা পাপী, বন্ধু হোক বা শত্রু, দানশীল হোক বা কৃপণ, উপকারী হোক বা অনিষ্টকারী, আত্মীয় হোক বা অনাত্মীয়, দেশী হোক বা বিদেশী।

প্রতিবেশী গণ্য হওয়ার সীমা : কত দূর এলাকার অধিবাসীরা প্রতিবেশী হিসাবে গণ্য হবে এ সম্পর্কে বিভিন্ন অভিমত পাওয়া যায়। যেমন- (১) হাসান (রাঃ) বললেন, নিজের ঘর হ’তে সম্মুখের চল্লিশ ঘর, পশ্চাতের চল্লিশ ঘর, ডান দিকের চল্লিশ ঘর এবং বাম পার্শ্বের চল্লিশ ঘর’ (এর অধিবাসী লোকজনই প্রতিবেশী হিসাবে গণ্য)। কেউ বলেন, চারিদিকের দশ ঘর প্রতিবেশী হিসাবে গণ্য হবে। আবার কেউ বলেন, যে ব্যক্তি ডাক শুনতে পায় সে প্রতিবেশী। অনেকের মতে, যে অতি নিকটে বা পাশাপাশি থাকে সে প্রতিবেশী। কেউ কেউ বলেন, প্রতিবেশী হচ্ছে যারা একই মসজিদে সমবেত হয়।

প্রতিবেশীর প্রকার : দূরত্বের বিবেচনায় প্রতিবেশী দু’প্রকার : ১. নিকটবর্তী প্রতিবেশী ২. দূরবর্তী প্রতিবেশী (নিসা ৪/৩৬)। ধর্মীয় ও আত্মীয়তার সম্পর্কের দিক দিয়ে প্রতিবেশী ৩ প্রকার। যথা- ১. মুসলিম আত্মীয় প্রতিবেশী, ২. মুসলিম অনাত্মীয় প্রতিবেশী ৩. অমুসলিম প্রতিবেশী।

আচার-আচরণের দৃষ্টিতে প্রতিবেশী দুই প্রকার। ১. উত্তম প্রতিবেশী ও ২. নিকৃষ্ট প্রতিবেশী। উত্তম প্রতিবেশী সম্পর্কে রাসূল (ছাঃ) বলেন,  ‘একজন মুসলমানের জন্য খোলামেলা বাড়ী, প্রশস্ত বাসভবন, সৎপ্রতিবেশী ও রুচিসম্মত বাহন সৌভাগ্য স্বরূপ’।

অন্যত্র রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘আল্লাহর নিকট সেই সাথী উত্তম, যে তার নিজ সাথীদের নিকট উত্তম এবং আল্লাহর নিকট সেই প্রতিবেশীই উত্তম, যে নিজের প্রতিবেশীর কাছে উত্তম’।

পক্ষান্তরে নিকৃষ্ট প্রতিবেশী হ’তে রাসূল (ছাঃ) দো‘আ করতেন এই বলে,  ‘হে আল্লাহ! আমি তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি দুষ্ট প্রতিবেশী হ’তে স্থায়ী বাসস্থানের। কেননা দুনিয়ার প্রতিবেশী পরিবর্তন হয়ে থাকে’।

প্রতিবেশী সম্পর্কে বিশেষ তাকীদ : প্রতিবেশীর ব্যাপারে রাসূল (ছাঃ)-কে জিবরীল (আঃ) বার বার তাকীদ করতেন। রাসূল (ছাঃ) বলেন,  ‘জিবরীল (আঃ) এসে আমাকে প্রতিবেশীর ব্যাপারে অবিরত উপদেশ দিতে থাকতেন। এমনকি মনে হ’ত যে, হয়ত তিনি প্রতিবেশীকে উত্তরাধিকারী বানিয়ে দিবেন’।

উত্তম ব্যবহার পাওয়ার অধিকার : প্রতিবেশী আত্মীয় হোক অথবা অনাত্মীয়, মুসলিম হোক অথবা অমুসলিম যে কোন অবস্থায় সাধ্যানুযায়ী তাদের সাহায্য-সহায়তা করা ও তাদের খোঁজ-খবর নেয়া যরূরী। তাদের সাথে উত্তম আচরণ করা আল্লাহর নির্দেশ। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘আল্লাহর ইবাদত কর, তাঁর সাথে কাউকে শরীক করো না। পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার কর এবং নিকটাত্মীয়, ইয়াতীম, মিসকীন, নিকটবর্তী প্রতিবেশী ও দূরবর্তী প্রতিবেশী, সহকর্মী, পথিক ও দাস-দাসীর সাথে ভাল ব্যবহার কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ অহংকারী-দাম্ভিককে পসন্দ করেন না’ (নিসা ৪/৩৬)। এই আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা পিতামাতার সাথে ভাল ব্যবহারের নির্দেশ দানের পাশাপাশি নিকটবর্তী ও দূরবর্তী প্রতিবেশীর সাথেও উত্তম ব্যবহার করার নির্দেশ দিয়েছেন। কেননা প্রতিবেশীরাই মানুষের বিপদ-আপদে সর্বাগ্রে এগিয়ে আসে। তাই এসব লোকের সাথে ভাল আচরণ করা সকলের জন্য অবশ্য কর্তব্য।

রাসূল (ছাঃ) বলেন,  ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন তার প্রতিবেশীর সাথে সদ্ব্যবহার করে’। অন্যত্র তিনি বলেন, ‘তুমি তোমার প্রতিবেশীর সাথে উত্তম ব্যবহার কর, তাহ’লে তুমি মুমিন হ’তে পারবে’।

প্রতিবেশীর সাথে সদাচরণ করার মধ্যেই আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (ছাঃ)-এর ভালবাসা নিহিত আছে। রাসূল (ছাঃ) বলেছেন,  ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ভালবাসা পেতে ইচ্ছা করে সে যেন সদা সত্য কথা বলে, আমানত রক্ষা করে এবং প্রতিবেশীর উপকার করে’।

প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেওয়া : সুশৃংখল ও শান্তিপূর্ণ সমাজ বিনির্মাণে ও সুখী-সমৃদ্ধশালী জীবন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে প্রতিবেশীর সাথে উত্তম ব্যবহার করা যরূরী। নিজেকে নিয়ে যে সদা ব্যস্ত থাকে, নিজের স্বার্থ ব্যতীত যে অন্য কিছুই ভাবে না, প্রতিবেশীর বিপন্ন ও দুর্দশাগ্রস্ত অবস্থা, হৃদয়গ্রাহী হাহাকার, করুণ আর্তনাদ যার মনে রেখাপাত করে না, এমনকি স্বীয় স্বার্থ চরিতার্থ করার লক্ষ্যে তাদেরকে কষ্ট দিতে কুন্ঠিত হয় না, সে পূর্ণ মুমিন হ’তে পারে না। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সে যেন তার প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেয়।[12] প্রতিবেশীর সাথে খারাপ আচরণ করা পাপ। এমনকি তা ঈমানহীনতার পরিচায়ক।

রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘আল্লাহর কসম! সে মুমিন নয়, আল্লাহর কসম! সে মুমিন নয়, আল্লাহর কসম! সে মুমিন নয়। জিজ্ঞেস করা হ’ল, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! কে সেই ব্যক্তি? তিনি বললেন, যার অনিষ্ট থেকে তার প্রতিবেশী নিরাপদ থাকে না’।[13] প্রতিবেশীকে কষ্ট দানকারী ব্যক্তি জান্নাতে যাবে না। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘সেই ব্যক্তি জান্নাতে যাবে না, যার অনিষ্ট থেকে তার প্রতিবেশী নিরাপদে থাকে না’।

প্রতিবেশীর সাথে ঝগড়া-বিবাদ না করা : প্রতিবেশীর সাথে কোন বিষয় নিয়ে বাক-বিতন্ডা ও ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত হওয়া উচিত নয়। কেননা এতে উভয়ের মাঝে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। তাছাড়া এর জন্য ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহর সামনে বিচারের সম্মুখীন হ’তে হবে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘ক্বিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম ঝগড়াটে দুই প্রতিবেশীর মোকদ্দমা পেশ করা হবে’।

প্রতিবেশীকে নির্যাতন করে গৃহত্যাগে বাধ্য না করা : প্রতিবেশীকে কষ্ট দিতে রাসূল (ছাঃ) নিষেধ করেছেন এবং কষ্ট দানকারীকে ঈমানহীন বলে অভিহিত করেছেন। এরপরও প্রতিবেশীকে কষ্ট দেওয়া ও নির্যাতন করে গৃহত্যাগে বাধ্য করা অতি বড় গোনাহের কাজ। এমর্মে বর্ণিত হয়েছে, আবু আমের হিমছী বর্ণনা করেন, ছাওবান (রাঃ) প্রায়ই বলতন, যখন দু’ব্যক্তি তিন দিনের বেশী সময় ধরে সম্পর্কচ্ছেদ করে থাকে, তখন তাদের একজনের সর্বনাশ হয়ে যায়। আর যদি দু’জনই সম্পর্কচ্যুত অবস্থায় মৃত্যুমুখে পতিত হয়, তবে তাদের উভয়েরই সর্বনাশ হয়। আর যে প্রতিবেশী তার কোন প্রতিবেশীকে নির্যাতন করে বা তার সাথে নিষ্ঠুর আচরণ করে যাতে সে ব্যক্তি গৃহত্যাগে বাধ্য হয়, সে ব্যক্তি নিশ্চিত ধ্বংসের মধ্যে পতিত হয়।

প্রতিবেশীকে হাদিয়া দেওয়া : উপহার আদান-প্রদানে পরস্পরের মধ্যে ভালবাসা সৃষ্টি হয়। নবী করীম (ছাঃ) বলেন, ‘পরস্পরকে উপহার দাও। এতে তোমাদের মধ্যে ভালবাসা সৃষ্টি হবে’। হাদিয়া প্রদানের ক্ষেত্রে নিকটতম প্রতিবেশীকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বললাম,  অর্থাৎ হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! আমার দু’জন প্রতিবেশী আছে। আমি তাদের কার নিকট উপঢেŠকন পাঠাব? রাসূল (ছাঃ) বললেন, ‘যার দরজা (বাড়ী) তোমার বেশী নিকটবর্তী’।

বাড়ীতে ভাল কোন খাদ্য বা তরকারী পাক হ’লে তাতে প্রতিবেশীকে শরীক করা রাসূল (ছাঃ)-এর নির্দেশ। তিনি আবু যর (রাঃ)-কে বলেন, ‘হে আবু যর! যখন কোন তরকারী পাক করবে, তখন তাতে একটু বেশী পানি দিয়ে ঝোল বাড়াও এবং তোমার প্রতিবেশীকে পৌঁছাও’। অন্য বর্ণনায় আছে,  ‘যখন ঝোল পাকাবে তখন তাতে পানি বেশী করে দিবে এবং তৎপর প্রতিবেশীর প্রতি লক্ষ্য করবে ও তা তাদেরকে সদিচ্ছা সহকারে বিতরণ করবে’। তিনি আরো বলেন, ‘যখন ঝোল পাকাও, তখন তাতে পানি বেশী করে দিবে এবং তা প্রতিবেশীদের মাঝে বিতরণ করবে’।

প্রতিবেশী যে ধর্মেরই হোক না কেন সকলেই উত্তম আচরণ পাবার অধিকারী। বাড়ীতে কোন ভাল জিনিস তৈরী হ’লে কিংবা পশু-পাখি যবেহ করা হ’লে তার গোশ্ত মুসলমান প্রতিবেশীর ন্যায় বিধর্মী প্রতিবেশীর বাড়ীতেও প্রেরণ করা উচিত। একবার আব্দুল্লাহ বিন আমর (রাঃ)-এর বাড়ীতে তাঁর বালক ভৃত্য একটি ছাগলের চামড়া ছাড়াচ্ছিল। তিনি বললেন, হে বৎস! কাজ শেষ করে আমাদের ইহুদী প্রতিবেশী হ’তে (গোশ্ত বিতরণ) শুরু করবে। তখন সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তি বলে উঠল, কি ইহুদী? আল্লাহ আপনাকে সংশোধন করে দিন। তিনি বললেন, আমি নবী করীম (ছাঃ)-কে প্রতিবেশী সম্পর্কে উপদেশ প্রদান করতে শুনেছি।

প্রতিবেশীর জন্য নিজের পসন্দনীয় বস্ত্ত এখতিয়ার করা : নিজের জন্য যা পসন্দ করবে, প্রতিবেশীর জন্যও তাই পসন্দ করবে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)বলেন, ‘আল্লাহর শপথ! তোমাদের মধ্যে কেউ পূর্ণ ঈমানদার হ’তে পারবে না, যতক্ষণ নিজের জন্য যা পসন্দ করে তা প্রতিবেশী অথবা তার ভাইয়ের জন্য পসন্দ না করবে’।

প্রতিবেশীকে অভুক্ত রেখে নিজে ভুরিভোজ না করা : দুঃখ-দৈন্য, অভাব-অনটন মানব জীবনের নিত্যসঙ্গী। এসব দিয়ে আল্লাহ মানুষকে পরীক্ষা করেন। আবার ধনী-দরিদ্রও আল্লাহ করে থাকেন। সুতরাং দরিদ্র প্রতিবেশীর খোঁজ-খবর নেওয়া আবশ্যক। প্রতিবেশী অভুক্ত থাকলে তাকে খাদ্য না দিয়ে নিজে পেট পুরে খাওয়া ঈমানদারের পরিচয় নয়। এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)বলেন ‘ঐ ব্যক্তি পূর্ণ মুমিন নয়, যে পেট পুরে খায় আর তার পাশেই তার প্রতিবেশী অভুক্ত থাকে’।

প্রতিবেশীর দাওয়াত কবুল করা : সমাজের মানুষের মধ্যে সুসম্পর্ক ও আন্তরিকতা সামাজিক বন্ধনকে সুদূঢ় করে। আর পরস্পরকে দাওয়াত দিলে হৃদ্যতা বৃদ্ধি পায়। দাওয়াত কবুল করা রাসূলের নির্দেশও বটে। তিনি বলেন,  ‘যখন তোমাদের কাউকে খাবারের জন্য দাওয়াত দেয়া হয়, তখন সে যেন তাতে সাড়া দেয় বা দাওয়াত কবুল করে। অতঃপর ইচ্ছা হ’লে সে খাবে আর না হ’লে সে ছেড়ে দিবে’। অন্য বর্ণনায় এসেছে,  ‘যখন তোমাদের কাউকে খাবারের জন্য আহবান জানানো হয়, তখন সে তাতে সাড়া দিবে। যদি সে ছায়েম হয়, তাহ’লে সে দো‘আ করবে’।

মুসলমানের ছয়টি হকের অন্যতম হচ্ছে দাওয়াত কবুল করা। যেমন রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘একজন মুসলমানের উপর অন্য মুসলমানের ছয়টা হক আছে। বলা হ’ল সেগুলি কি হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! তিনি বললেন, তার সাথে সাক্ষাৎ হ’লে সালাম দিবে; তোমাকে দাওয়াত দিলে কবুল করবে; পরামর্শ চাইলে সুপরামর্শ দিবে; হাঁচি দিয়ে আল-হামদুলিল্লাহ বললে ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ’ বলবে; অসুস্থ হ’লে দেখতে যাবে এবং মারা গেলে জানাযায় শরীক হবে’।

প্রতিবেশীর সুবিধা-অসুবিধার প্রতি লক্ষ্য রাখা : প্রতিবেশীর সুবিধা-অসুবিধার প্রতি লক্ষ্য রাখা ইসলামের নির্দেশ। এমনকি নিজের কিছুটা ক্ষতি হ’লেও প্রতিবেশীর সুবিধা করে দেওয়া ও তার অসুবিধা না করার নির্দেশ দিয়েছে ইসলাম। রাসূল (ছাঃ) বলেছেন,  ‘এক প্রতিবেশী যেন অপর প্রতিবেশীকে দেয়ালের সাথে খুঁটি গাড়তে নিষেধ না করে’।

প্রতিবেশীর জান-মাল, ইয্যত-আব্রু হেফাযত করা : প্রতিবেশীর মান-সম্মানের প্রতি লক্ষ্য রাখা যেমন যরূরী, তেমনি মাল-সম্পদ হেফাযত করাও অবশ্য কর্তব্য। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘মুসলিম সে ব্যক্তি যার হাত ও যবান থেকে অন্য মুসলিম নিরাপত্তা লাভ করে’। অন্য হাদীছে এসেছে, মিকদাদ ইবনুল আসওয়াদ (রাঃ) বলেন, অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) একদা তাঁর ছাহাবীগণকে ব্যভিচার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন, (তা কেমন? উত্তরে) তারা বললেন, হারাম; আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তা হারাম করেছেন। তখন তিনি বললেন, কোন ব্যক্তি দশজন নারীর সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হ’লেও তা তার প্রতিবেশীর স্ত্রীর সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়া অপেক্ষা লঘুতর (পাপ)। অতঃপর তিনি বললেন, কোন ব্যক্তির দশ ঘরের লোকজনের বস্ত্ত-সামগ্রী চুরি করা তার প্রতিবেশীর ঘরে চুরি করার চেয়ে লঘুতর’।

প্রতিবেশীর দোষ-ত্রুটি গোপন রাখা : মানুষ দোষ-ত্রুটির ঊর্ধ্বে নয়। ভাল এবং মন্দগুণের সমন্বয়ে মানুষ। প্রতিবেশীর দোষ গোপন রাখা অবশ্য কর্তব্য। কেননা মুসলিম ভাইয়ের দোষ গোপন রাখলে আল্লাহ ক্বিয়ামতে তার দোষ গোপন রাখবেন। রাসূল (ছাঃ) বলেন,  ‘যে ব্যক্তি দুনিয়াতে কারো দোষ গোপন রাখে, ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহ তার দোষ গোপন রাখবেন’।

অন্যত্র রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন,  ‘যে ব্যক্তি কোন মুসলমানের দোষ গোপন করবে, আল্লাহ দুনিয়া ও আখিরাতে তার দোষ গোপন করবেন’।

প্রতিবেশীর প্রতি অনুগ্রহ করা ও তাকে কর্যে হাসানা প্রদান করা : পার্থিব জীবনে মানুষ অপরের সাহায্য ছাড়া চলতে পারে না। এজগতে কোন মানুষই স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। বরং সে কোন না কোন ক্ষেত্রে অপরের মুখাপেক্ষী। প্রতিবেশীর কাজে সাধ্যমত সহায়তা করা তার প্রতি দয়ার বহিঃপ্রকাশ। আর মানুষের প্রতি মানুষের দয়া-অনুগ্রহে সমাজ সুন্দর হয়; আল্লাহর রহমত লাভ হয়। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘আল্লাহ তা‘আলা সেই ব্যক্তির উপর দয়া করেন না, যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি দয়া করে না’।

প্রতিবেশী কখনও সমস্যায় পড়লে কর্যে হাসানা দিয়ে তাকে সাহায্য করা উচিত। তাকে কর্যে হাসানা দিয়ে সাহায্য করলে আল্লাহ তা‘আলা সাহায্যকারীকেও সাহায্য করবেন। এ মর্মে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোন মুমিনের পার্থিব দুঃখ-কষ্ট দূর করবে, আল্লাহ ক্বিয়ামতে তার দুঃখ-কষ্ট দূর করবেন। যে ব্যক্তি কোন সংকটাপন্ন ব্যক্তির সংকট নিরসন করবে, আললাহ তার দুনিয়া ও আখিরাতের যাবতীয় সংকট নিরসন করে দিবেন। আর যে ব্যক্তি কোন মুসলমানের দোষ-ত্রুটি গোপন করবে আল্লাহ তা‘আলা দুনিয়া ও আখেরাতে তার দোষ-ত্রুটি গোপন রাখবেন। আর আল্লাহ ততক্ষণ পর্যন্ত বান্দার সাহায্য করে থাকেন, যতক্ষণ পর্যন্ত বান্দা নিজ ভাইয়ের সাহায্যে রত থাকে’।

মূল লেখা: ড. মুহাম্মাদ কাবীরুল ইসলাম।

নিউজ টুডে বিডি/নিউজ ডেস্ক