কিংবদন্তি অনুসন্ধানী সাংবাদিক সেমুর হার্শের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হোয়াইট হাউসের এক গোপন বৈঠকে ক্রমবর্ধমান চাপে থাকা মার্কিন প্রেসিডেন্ট যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার লক্ষ্যে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়ে অস্পষ্টভাবে হলেও বেশ ভয়ংকরভাবেই আলাপ তুলেছেন। তথ্যসূত্র: জিওপলিটিক্স প্রাইম।
৪ মাস পেরিয়ে যাওয়ার পর ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা এখন তলানিতে। জনমত জরিপ বলছে, ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদ (হাউস) এবং সম্ভবত সিনেটের নিয়ন্ত্রণও ফিরে পেতে পারে। আর এমনটা হলে, তার বিরুদ্ধে অভিশংসনের ডাকও উঠবে।
এদিকে, ইরান এখনও তাদের ভূগর্ভস্থ কারখানাগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করে চলেছে। যুক্তরাষ্ট্র তাদের আটকাতে পারছে না। ট্রাম্পের এই যুদ্ধের কোনো শেষও দেখা যাচ্ছে না।
ইরানের ন্যায্য দাবিগুলো হলো: অবরোধ প্রত্যাহার, আটকে থাকা সম্পদ ফেরত দেওয়া, হরমুজ প্রণালির ওপর সার্বভৌমত্ব এবং লেবাননে শান্তি প্রতিষ্ঠা। এগুলো মোটেই অযৌক্তিক নয় বরং দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য এগুলো একদম ন্যূনতম শর্ত। কিন্তু ট্রাম্প এগুলোকে ‘আত্মসমর্পণ’ হিসেবে দেখছেন।
তিনি নেতানিয়াহুকেও নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না। ইসরায়েল লেবাননে ক্রমাগত বোমা হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যেকোনো চুক্তির সম্ভাবনাকে ভেস্তে দিচ্ছে।
ট্রাম্প নিজেকে কৌশলবিদদের বদলে চাটুকার ও অনুগতদের দিয়ে ঘিরে রেখেছেন। লিন্ডসে গ্রাহামের মতো যুদ্ধবাজ এবং মার্ক লেভিনের মতো কট্টর জায়নবাদীদের কথাই কেবল তার কানে পৌঁছায়। কেউ তাকে সত্যটা বলে না।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জেতা সম্ভব নয়, এমন এক যুদ্ধে ট্রাম্প আটকা পড়ে গেছেন। তাই খোলা থাকা একমাত্র উপায়েই তিনি এই যুদ্ধের ইতি টানার কথা ভাবছেন, আর তা হলো চরম ধ্বংসযজ্ঞ নামিয়ে আনা।
ট্রাম্পের মার্কিন সাম্রাজ্য এখন কোণঠাসা। আর কোণঠাসা সাম্রাজ্য মরিয়া হয়ে যেকোনো কিছু করতে পারে।
ট্রাম্প যদি সত্যিই পারমাণবিক অস্ত্রের পথে হাঁটেন, তবে বৈশ্বিক সমীকরণ চিরতরে বদলে যাবে এবং তা নিশ্চিতভাবেই আমেরিকার পক্ষে যাবে না।
নিউজ টুডে বিডি/নিউজ ডেস্ক