স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহায় দেশের বিভিন্ন স্থানে বসতে যাওয়া পশুর হাট ঘিরে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি সহ্য করা হবে না। চাঁদাবাজি ঘটলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর হাতে দমন করবে।
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশব্যাপী যানজট নিরসন, পশুর হাটের ব্যবস্থাপনা, মহাসড়ক–রেলপথ–নৌঘাটের ব্যবস্থাপনাসহ চামড়ার মূল্য নির্ধারণ নিয়ে দীর্ঘ সভা হয়েছে বলে জানান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সভায় প্রধানমন্ত্রী বেশ কিছু অনুশাসন জারি করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে—রেললাইন ও মহাসড়কের মধ্যে কোনো পশুর হাট বসানো যাবে না। ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে নির্ধারিত স্থানের বাইরে যেখানে–সেখানে কোনো হাট বসবে না। নির্দেশ অমান্য করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সিটি করপোরেশন পদক্ষেপ নেবে।
ঈদের সময় যানজট নিরসনে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, প্রতিবছর গাবতলী হাটে পশু ক্রয়-বিক্রয় ও আনা-নেওয়ার সময় বড় ধরনের যানজট তৈরি হয়। ফলে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় সড়কে অপেক্ষায় থাকতে হয়। গাড়ির সময়সূচিতে বিপর্যয় ঘটে। এই সমস্যা নিরসনে ডিএমপি, সিটি করপোরেশনের কিছু পরামর্শ–সুপারিশ নেওয়া হয়েছে। সেগুলো বিবেচনায় রেখে ইজারাদার, ডিএমপি ও সিটি করপোরেশনকে কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী তারা কাজ করবে।
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঈদের ৭ থেকে ১০ দিন আগে সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সব বাহিনী, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও হাটের ইজারাদারেরা আবার বৈঠক করবেন। ক্রেতা-বিক্রেতাদের নির্বিঘ্নে পশু কেনাবেচা নিশ্চিত করাসহ যানজট নিরসনের চেষ্টা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হবে।
পশুর হাটগুলোতে পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, র্যাব, প্রয়োজনে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হবে বলে জানান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, দায়িত্বে থাকবেন বিজিবির সদস্যরাও। এ ছাড়া এখানে স্বাস্থ্য ক্যাম্প বসানো হবে।
মীর শাহে আলম বলেন, কেউ যাতে জাল টাকা ব্যবহার করতে না পারেন, সে জন্য ব্যাংকের লোক মেশিন নিয়ে হাটে উপস্থিত থাকবেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য অনেকগুলো ওয়াচ টাওয়ার থাকবে। পাশাপাশি ইজারাদারেরা নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ দেবে। মোটকথা, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও অনুশাসন অনুযায়ী সভায় নেওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই তিনি এখানে এসেছেন।
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেন, আশা করি, ঈদুল আজহার পশুর হাট এবং দেশবাসীর ঢাকা ছেড়ে যাওয়া ও আসার রাস্তাগুলো নির্বিঘ্ন থাকবে।
বুধবার সকালে রাজধানীর গাবতলী পশুর হাটের ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং গাবতলী বাস টার্মিনালে প্রবেশের নতুন রাস্তা নির্মাণকাজের অগ্রগতি পরিদর্শন শেষে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী এই হুঁশিয়ারি দেন। এ সময় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার উপস্থিত ছিলেন।
নিউজ টুডে বিডি/নিউজ ডেস্ক